তবে তিনি হুঁশিয়ার করে বলেছেন, ‘যারা পরবর্তী ধাপে চামড়া কিনবেন, তাদের প্রক্রিয়া কোনো ধরনের শ্লথগতি বা ধীরভাব দেখা গেলে সরকার ওয়েট ব্লু (আংশিক প্রক্রিয়াজাত) চামড়া রফতানির অনুমতি দেবে।’ সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল সিলেট নগরীর শহীদ সুলেমান হলে এক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
চামড়া খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগামীতে চামড়া শিল্পকে পরিপক্ব রফতানিমুখী খাতে রূপান্তরের লক্ষ্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোয় আধুনিক স্লটার হাউজ (পশু জবাইখানা) নির্মাণ করা হবে। এর মাধ্যমে পেশাদারত্ব ও কম খরচে পশু জবাই, চামড়া ছাড়ানো এবং মাংস কেটে গ্রাহকদের হাতে তুলে দেয়া হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে স্লটার হাউজে জবাইকৃত পশুর চামড়ার শতভাগ সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি শহরগুলোয় পশু জবাইয়ের কারণে সৃষ্ট বর্জ্য ও আবর্জনা জমার কোনো সুযোগ থাকবে না।’
সাভারের চামড়া শিল্পনগরী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তরের প্রক্রিয়ায় যেসব ট্যানারি ঝরে পড়েছে বা ব্যবসা শুরু করতে পারেনি; তাদের মধ্যে যাদের এখনো উৎসাহ আছে, সক্ষমতা আছে, তাদের আমরা ফ্যাসিলিটেট করব। তারা যাতে নিজেরাই ইনডিপেনডেন্ট হতে পারে, সে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কারিগরি এবং আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে।’
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরো বলেন, ‘চামড়া শিল্পনগরীর সক্ষমতা বাড়াতে সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। এটা সম্পন্ন করার পর দ্রুত কাজ করব, যাতে শোধন ক্ষমতা ২৫ হাজার কিউবিক মিটারে পৌঁছানো যায়।
তিনি বলেন, ‘সাভারে যে কয়টি ট্যানারি ব্যবসা পরিচালনা করবে তাদের প্রত্যেকটিকে এলডব্লিউজি গোল্ড ক্যাটাগরিতে নিয়ে যাওয়া হবে। এটিই হবে সরকারের আগামী দিনের লক্ষ্যমাত্রা, যাতে দেশের বাইরে পণ্য রফতানি করে ব্যবসায়ীরা সর্বোচ্চ মূল্য ও সুবিধা পান।’